Saturday, January 26, 2019

পল্লিমঙ্গল ইউনাইটেড একাডেমী এন্ড কলেজ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

পল্লিমঙ্গল ইউনাইটেড একাডেমী এন্ড কলেজ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

পল্লিমঙ্গল ইউনাইটেড একাডেমী এন্ড কলেজ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-২০১৯.....

আবেদনের শেষ তারিখঃ ২০-২-২০১৯।
বিস্তারিত সার্কুলারে দেখুন।
মৃত্যু শয্যায় মহাবীর আলেকজান্ডার কি বলেছিল?- জেনে নিন।

মৃত্যু শয্যায় মহাবীর আলেকজান্ডার কি বলেছিল?- জেনে নিন।


মৃত্যু শয্যায় মহাবীর আলেকজেন্ডার তার সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর আমার তিনটা ইচ্ছা তোমরা পূরণ করবে।
★ আমার প্রথম অভিপ্রায় হচ্ছেঃ-
শুধু আমার চিকিৎসকরাই আমার কফিন বহন করবেন।
★ আমার ২য় অভিপ্রায় হচ্ছেঃ-
আমার কফিন যে পথ দিয়ে যাবে সেই পথে আমার অর্জিত সোনা ও রুপা ছড়িয়ে থাকবে।
★ আর শেষ অভিপ্রায় হচ্ছেঃ- 
কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাইরে ঝুলিয়ে রাখবে।’
তার সেনাপতি তখন তাঁকে এই বিচিত্র অভিপ্রায় কেন করছেন প্রশ্ন করলেন।
দীর্ঘ শ্বাস গ্রহণ করে আলেকজান্ডার বললেন:- আমি দুনিয়ার সামনে তিনটি শিক্ষা রেখে যেতে চাই
 আমার চিকিৎসকদের কফিন বহন করতে এই কারনে বলেছি যে,  যাতে লোকে বলতে পারে যে চিকিৎসক মানুষকে সারিয়ে তুলতে পারে না। তারা ক্ষমতাহীন আর মৃত্যুর থাবা থেকে রক্ষা করতে অক্ষম।
 যাবার পথে সোনা-দানা ছড়িয়ে রাখতে বলেছি যে সোনা-দানার একটা কণাও আমার সঙ্গে যাবে না। এগুলো পাওয়ার জন্য সারাটা জীবন ব্যয় করেছি কিন্তু নিজের সঙ্গে কিছুই নিয়ে যেতে পারছি না। মানুষ বুঝুক এসবের পেছনে ছোটা মানে সময়ের অপচয়।’
 কফিনের বাইরে আমার হাত ছড়িয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে বুঝানোর জন্য যে , পৃথিবীতে খালি হাতে এসেছি আজ পৃথিবী থেকে খালি হাতেই চলে যাচ্ছি।

তথ্যবিষয়/সুজন
গণিত শাস্ত্রে যাদের বিশেষ অবদান ছিল।

গণিত শাস্ত্রে যাদের বিশেষ অবদান ছিল।


বিশ্বের সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত অনেক গণিতবিদ জন্ম হয়েছে তাদের প্রত্যেকের কাছেই আমরা কৃতজ্ঞ। তবে শ্রেষ্ট প্রথম ১০ জন গণিতবিদের নাম নিচে আলোচনা করা হলো।

১.আর্কিমিডিস (সর্বকালের শ্রেষ্ট গণিত - পদার্থবিদ, খ্রিস্ট পূর্ব ২১২-২৮৭)।

২. স্যার আইজাক নিউটন (সর্বকালের শ্রেষ্ট গণিত - পদার্থবিদ, ১৬৪৩-১৭২৭)।

৩. যোহান কার্ল ফ্রেডরিচ গাউস (সর্বকালের শ্রেষ্ট গণিত যুবরাজ, ১৭৭৭-১৮৮৫)।

৪. নিউনার্দো অয়লার (সুইজারল্যান্ড - রাশিয়ার শ্রেষ্ট গণিতবিদ, ১৭০৭-১৭৮৩)।

৫. আলবার্ট আইনস্টাইন (জার্মানির জগৎখ্যাত তাত্ত্বিক গণিত - পদার্থবিদ)।

৬. আল খোয়ারেজমি (এ্যালজাবরার জনক আরব গণিত সম্রাট,৭৮০-৮৫০)।

৭. ইউক্লিড (জ্যামিতির জনক শ্রেষ্ট মিশরীয় গণিতবিদ,  ৩২৫-২৬৫)।

৮. কার্ল পিয়ারসন(ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ট গণিত - পরিসংখ্যানবিদ, ১৮৫৭-১৯৩৬)।

৯. রেনে দেকার্তে(স্থানাংক জ্যামিতির জনক ফেন্স গণিত - দার্শনিক, ১৫৯৬-১৬৫০)।

১০. জর্জ ক্যান্টর(রাশিয়ার বিখ্যাত সেটতত্ত্বের জনক গণিত - দার্শনিক, ১৮৪৫-১৯১৮)।                          

Saturday, January 19, 2019

হরিন ও তার সিদ্ধান্ত (গল্প)-লিখেছেন শাখাওয়াত হোসেন।

হরিন ও তার সিদ্ধান্ত (গল্প)-লিখেছেন শাখাওয়াত হোসেন।


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম   

গল্পের নাম- হরিণ ও তার সিদ্ধান্ত।
লিখেছেনঃ-শাখাওয়াত হোসেন শিমুল।

একদা একটি হরিণ এক বনে বাস করতো। হরিণটি তার নিজের জন্য এবং বাচ্চাদের জন্য খাবার সন্ধানে বের হলো।এক পর্যায়ে খাবার সন্ধান করতে করতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো।

"কখন যে সন্ধ্যা হলো টের ই পেলাম না," এমনটা বলতে লাগলো হরিণটি।

চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসছিল।এখন সে ঠিক করলো তাকে নিজ গন্তব্যে যেতে হবে।সে আগে থেকেই সব জানে কোন পথ দিয়ে গেলে বিপদে পড়বে এবং কোন পথ দিয়ে গেলে বিপদে পড়বে না।
সে দেখলো যে পথটা বাকা হয়ে চলে গেছে ওই পথটা দিয়ে গেলে সময় কম লাগবে তবে শঙ্কার বিষয় হলো ওই পথটায় হিংস্র জানোয়াররা সন্ধ্যার পর ঘোরাঘুরি করে। আর সোজা যে পথটা চলে গেছে সেটা আশংকামুক্ত তবে সময় বেশি লাগবে, হিংস্র জানোয়াররা এই পথে আসে না।

এতক্ষণ হরিণটি দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভাবছিল। এদিক দিয়ে অন্ধকার আরো ঘনীভূত হয়ে আসছিল।সে সিদ্ধান্ত নিল আমি কাছের যে  রাস্তাটা ওইটা দিয়েই যাব।যদি হিংস্র জানোয়ার আক্রমণ করে  দৌড়ে পালাবো।এই বলে সে রওনা শুরু করলো।যেতে যেতে মনে মনে ভাবতেছে সিদ্ধান্ত কি ঠিক ছিল।
ভাবতেছিল আর সামনের দিকে একপা একপা করে অগ্রসর হচ্ছিল। হঠাৎ আচমকা ৪-৫ টা বাঘ তাকে ঘিরে ধরলো।সে পালাতে চাইলো কিন্তু বাঘের সংখ্যা অধিক হওয়ার কারনে পালাতে পারলো না।সে তার ভুল বুঝতে পারলো তার নিজের জীবন দিয়ে। 

শিক্ষাঃ- আমাদেরকে অনেক সময় খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।যার ফলে আমরা যেকোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে যায়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও কিছু সময় থাকে ভাবার যে, সিদ্ধান্তটা আমার ঠিক হবে না ভুল হবে।তাই হুটহাট করে হরিণের মতো সিদ্ধান্ত নিলে এমনটা হবেই এবং সেটা স্বাভাবিক।                                 
  

Thursday, January 17, 2019

বন্ধ হচ্ছে সাত দিনের নিচে মোবাইল ফোনের সব প্যাকেজ!!

বন্ধ হচ্ছে সাত দিনের নিচে মোবাইল ফোনের সব প্যাকেজ!!


অবশেষে বন্ধ হচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলোর ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্যাকেজ, তিন দিনের প্যাকেজ, ৫ দিনের প্যাকেজসহ সবগুলো ছোট প্যাকেজ। এ সব ছোট প্যাকেজে প্রতারিত হয়ে আসছিলেন গ্রাহকরা। আগামী ২৭ জানুয়ারির পর থেকে ৭ দিনের নিচে টকটাইম বা ইন্টারনেটের আর কোনো প্যাকেজ থাকবে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন- বিটিআরসি সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। এটা মানার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে বিটিআরসি।
গতকাল বুধবার টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথা জানিয়েছেন বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক।
টেলিযোগাযোগ খাতে ২০১৮ সাল অর্জন ও সফলতার বছর ছিল উল্লেখ করে জহুরুল হক বলেন, চলতি বছরে সেবার মান উন্নত করার ওপরই জোর দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ক্ষমা কিংবা অজুহাত গ্রাহ্য করবে না বিটিআরসি। টিআরএনবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ছাড়াও দুজন কমিশনার, মহাপরিচালক, পরিচালক ও কমিশন সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মোবাইল ফোনের ছোট প্যাকেজগুলো কিনে প্রতারিত হয়ে আসছিলেন গ্রাহকরা। ওই প্যাকেজগুলো কম টাকায় দিলেও ইন্টারনেটসহ আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলো গ্রাহকরা শেষ করতে পারতেন না। ফলে তার বেঁচে যাওয়া ইন্টারনেট নষ্ট হয়ে যেত। আবার তাকে কিনতে হতো। অন্তত ৭ দিনের প্যাকেজ থাকলেও গ্রাহক হিসেব করে খরচ করতে পারেন।
জহুরুল হক বলেন, ‘যে অপারেটরের কোয়ালিটি খারাপ তাকে আমরা নোটিশ দিচ্ছি, শোকজ করছি। প্রয়োজন হলে আইনানুগ আচরণ করবো। এ বছর কোয়ালিটি ডেভেলপ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি আছি। মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলেও কল ড্রপ হচ্ছে। একদিন মন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমি মন্ত্রী আপনি চেয়ারম্যান। আপনার সঙ্গে কথা বললাম তাও ড্রপ হয়ে গেল, অন্যদের কথা কি বলব?’
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, মোবাইল অপারেটরদের কোয়ালিটি র্যাংকিংয়ের জন্য একটি কোম্পানি নিয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলাফল দিয়ে র্যাংকিং করা হবে। এর ফলাফল ওয়েবসাইটে থাকবে, যার ওপর ভিত্তি করে গ্রাহক অপারেটর পছন্দ করবে। ২০১৯ সালের মধ্যেই তা করে ফেলতে পারবো। তিনি বলেন, কোয়ালিটির জন্য পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম থাকতে হবে। অপারেটররা বুঝতে পেরেছে স্পেকট্রাম কম থাকলে কোয়ালিটি ডেভেলপ করা যাবে না। এ জন্য তারা চেষ্টা করছে আলোচনার জন্য, আমরা দেখছি কী করা যায়?
বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার’ বা এসএমপি শিরোনামে প্রবিধানমালা করা হচ্ছে। জানা গেছে, সেখানে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা, বার্ষিক রাজস্ব বা বরাদ্দ পাওয়া তরঙ্গের পরিমাণ বাজারের মোট হিস্যার ৪০ শতাংশের বেশি হলে তাকে ‘সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার’ ঘোষণা করা যাবে। ওই কোম্পানি দানবীয় আকার নিয়ে যাতে বাজার গ্রাস বা প্রতিযোগিতার পথ রুদ্ধ করতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বাংলাদেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা ও রাজস্বের দিক দিয়ে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যা রয়েছে কেবল গ্রামীণফোনের। তাদের গ্রাহক ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ। জহুরুল হক বলেছেন, এসএমপি হয়ে গেলে সবাই ব্যবসা করতে পারবে। কারও গ্রাহক ৪০ শতাংশের বেশি হবে না। আগামী কমিশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
জানা গেছে, বার্ষিক রাজস্ব আয়ের দিক দিয়ে গ্রামীণফোন আরও এগিয়ে আছে। ২০১৭ সালে বাজারের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৩ শতাংশ পেয়েছে তারা। বাজারে একক কর্তৃত্বের পাশাপাশি সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, বাজারের সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশ’, অধিগ্রহণ বা একীভূতকরণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে এসএমপি প্রবিধানমালায়। এই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে বিটিআরসির হাতে।
ডায়েরি (গল্প)  - লিখেছেন সাদ সাইফ।

ডায়েরি (গল্প) - লিখেছেন সাদ সাইফ।



অয়ন! এই অয়ন। উঠলি না এখনো। ওদিকে মসজিদে ফজরের জামাত শেষ হয়ে গেল যে! সান্ত¡নার ডাক শুনেই ‘জি বুবু’ বলে তড়িঘড়ি ওঠে পড়ে অয়ন। তারপর অজু বানিয়ে মসজিদের দিকে পা বাড়ায় সে।
সান্ত¡নাও অজু বানিয়ে নেয় নামাজের জন্য। এই হলো সান্ত¡না ও অয়নের দিনের প্রথম কাজ। এদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান মাত্র তিন বছরের। সান্ত¡না ক্লাস এইটে আর অয়ন সবেমাত্র ক্লাস ফাইভে। মেধার বিচারে সান্ত¡না অয়নের থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সম্পর্কের বিচারে তারা দু’জনই সমান। দু’জনের ভেতরে ভালোবাসার কোন কমতি নেই। মোদ্দাকথা অয়ন খুশি সান্ত¡নার মত একটা বোন পেয়ে। আর সান্ত¡নাও খুশি অয়নের মত একটা স্নেহের ছোট ভাই পেয়ে। বলতে গেলে দু’ভাই-বোনের এমন হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কে খুশি তাদের মা-বাবাও। এমনই তো চেয়েছিলেন তারা।
মসজিদ থেকে ফিরে এসে অয়ন আস্তে করে হাঁক দেয়, ‘বুবু’, কোথায় গেলে? ক্ষুধা লেগেছে তো। এটা অয়নের নিত্যদিনের কাজ। নামাজ শেষ হলে বাড়িতে এসে ক্ষুধা বেশি লাগুক বা কম লাগুক বুবুর হাতের নাস্তা তার খাওয়া চাই-ই চাই। এটা অয়নের নৈমিত্তিক কাজ। এইতো কিছুদিন আগেও অয়ন ফজরের নামাজ শেষ করে বাড়িতে এসে ‘বুবু’ বলে ছোট্ট করে ডাক দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ভেতরে যায় সে। গিয়ে দেখে বুবু তার জন্য নাস্তা তৈরি করছে।
অয়নের উপস্থিতি দেখে সান্ত¡না বলল, ‘ভাইয়া তুমি এসে গেছ?’ অয়ন কিছুটা অভিমানের সুরে বলল, ‘পেটে ওদিকে ছুঁচো দৌড়াচ্ছে।’ সান্ত¡না বলে উঠল, ‘এইতো দিচ্ছি ভাইয়া।’ এরপর থেকে সান্ত¡না অয়নের জন্য যথাসম্ভব দ্রুত খেতে দেয়ার চেষ্টা করে। যাতে ভাইটি কষ্ট না পায়। ছোট্ট ভাইটির ছোট-ছোট আবদারগুলোও পূরণ করে করে সান্ত¡না। তাই অয়নও তার বুবুর কাছে আবদার করে। প্রতিদিনকার মতো আজও সান্ত¡না তার স্নেহের ছোট্ট ভাইটির জন্য সকালের নাস্তা রেডি করে রেখেছে। আজকে অয়নের মধ্যে কেমন একটা বিচলিত ভাব দেখতে পেল সান্ত¡না। তাই উৎসুক ভঙ্গিতে বলল, ‘ভাইয়া, কিছু কি বলতে চাচ্ছ আমায়?’ মাথা নেড়ে হ্যাঁসূচক ইঙ্গিতে অয়ন বলে, ‘বুবু, আমাকে একটা জিনিস কিনে দিবা?’
– ‘কী জিনিস?’
– ‘আগে দিবা কিনা তাই বলো?’
– হ্যাঁ, আগে নামটা তো বলো।
– একটা ডায়েরি।
– ‘ও আচ্ছা, কিনে দেব। কিন্তু আমাকে আগে বলো ডায়েরিটা দিয়ে করবেটা কী?’ অয়ন সূরা আসর তেলাওয়াত করে অতঃপর বলে, সময়ের কসম! সকল মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করতে থেকেছে এবং একজন অন্যজনকে হক কথার ও সবর করার উপদেশ দিতে থেকেছে। এরপর অয়ন বলে, ডায়েরিটায় আমি আমার সারাদিনের কাজ লিখে রাখব। দিনের মধ্যে কত ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়লাম, কত ওয়াক্ত কাজা পড়লাম, কত সময় বই পড়ছি, খেলা করছি, অন্যান্য কাজে সময় ব্যয় করছি সবই লিখে রাখব তাতে। তাহলে দিনের ভেতর যে সময়টুকু অপব্যয় করছি আস্তে আস্তে তা আর হবে না। এবং একদিন দেখা যাবে আমার কোন সময়ই বাজে কাজে নষ্ট হচ্ছে না। ভাইটির মুখে এমন কথা শুনে সান্ত¡না মহান রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করে।
আর এই আনন্দে চোখ থেকে দু’ফোঁটা অশ্রু কখন যে তার হাতে পড়ল খেয়ালই করেনি সে….।